আফগানিস্তানে ভোটার নিবন্ধন কেন্দ্রে আত্মঘাতী হামলায় নিহত ৫৭ আহত ১১২

আফগানিস্তানে ভোটার নিবন্ধন করাতে গিয়ে বোমা হামলায় প্রাণ হারাতে হলো অন্তত ৫৭ জনকে। এ ছাড়া আহত হয়েছে কমপক্ষে ১১২ জন। নারী-শিশুসহ হতাহতদের প্রায় সবাই বেসামরিক লোক। গতকাল রবিবার রাজধানী কাবুলের একটি ভোটার নিবন্ধন কেন্দ্রের  সামনে এ আত্মঘাতী হামলা হয়। সুন্নিপন্থী জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) হামলার দায় স্বীকার করেছে।

আফগানিস্তানে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা পার্লামেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা আগামী ২০ অক্টোবর। ওই নির্বাচন সামনে রেখে গত ১৪ এপ্রিল শুরু হয় ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম। কিন্তু নির্বাচনকেন্দ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে দেশটিতে যে শঙ্কা রয়েছে, গতকালের হামলা তা আরো বাড়িয়ে দিল।

গতকাল যে নিবন্ধনকেন্দ্রে হামলা হয়, সেটির অবস্থান কাবুলের পশ্চিমাঞ্চলের শিয়া অধ্যুষিত দাস্তে বারচি এলাকায়। নিবন্ধনকেন্দ্রটি দোতলা। নগর পুলিশের প্রধান দাউদ আমিন বলেন, ‘হামলাটি হয়েছে নিবন্ধনকেন্দ্রের প্রবেশপথে। এটা ছিল আত্মঘাতী হামলা।’

Loading...

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘আরিয়ানা টিভি’র ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনাস্থলের এখানে-সেখানে মানুষের রক্ত। রাস্তায় পড়ে আছে কাচের টুকরা। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমি জানি না, আমার মেয়ে এখন কোথায় আছে। আল্লাহ হামলাকারীদের বিচার করবে।’

আকবর নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী ‘আরিয়ান টিভি’কে বলেন, ‘আমরা বুঝে গেছি, সরকার আমাদের নিরাপত্তা দিতে পারবে না। এখন অস্ত্র হাতে তুলে নিয়ে নিজেদের নিরাপত্তা নিজেদেরই নিশ্চিত করতে হবে।’ হামলার পর অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনাস্থলের ছবি শেয়ার করে। তাতে দেখা যায়, বেশ কয়েকজনের মরদেহ পড়ে আছে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নিবন্ধনকেন্দ্রের ভবনটি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাজিব দানেশ জানান, হামলায় নারী-শিশুসহ অন্তত ৫৭ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে ১১২ জন। হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে।

তাত্ক্ষণিকভাবে হামলার দায় স্বীকার করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস। ওই জঙ্গিগোষ্ঠীর মুখপত্র হিসেবে পরিচিত ‘আমাক’ সংবাদ সংস্থা জানায়, তাদের এক যোদ্ধা বিস্ফোরকভর্তি বেল্ট পরে সেখানে আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছে।

আফগানিস্তানের পার্লামেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল ২০১৫ সালে। কিন্তু নিরাপত্তা ঘাটতির কারণে তা কয়েক দফা পিছিয়ে আগামী ২০ অক্টোবর নির্ধারণ করে দেশটির ‘ইনডিপেনডেন্ট ইলেকশন কমিশন’ (আইইসি)। কিন্তু তিন বছর পিছিয়েও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। কারণ দেশটির অনেক এলাকা তালেবানের নিয়ন্ত্রণে। অনেক এলাকায় আধিপত্য রয়েছে আইএসের।

এ অবস্থায় ভোটার নিবন্ধন শুরু হওয়ার পর থেকেই বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন এলাকায় হামলা অব্যাহত আছে। গত শুক্রবারও বাদগিস প্রদেশের একটি নিবন্ধনকেন্দ্রে তালেবানের রকেট হামলায় এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। এর আগে গত মঙ্গলবার গোর প্রদেশের একটি নিবন্ধনকেন্দ্রে হামলা চালিয়ে তিন নির্বাচনকর্মী ও দুই পুলিশকে তুলে নিয়ে যায় বন্দুকধারীরা। দুই দিন পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Loading...