প্রেমের জন্য……

এক শিশুকে অপহরণ করেছেন এক যুবক। কিন্তু টাকার জন৵ নয়। তাহলে কী চাই তাঁর? চাই মনের মানুষটিকে। হ্যাঁ, তাঁর হাতে তুলে দিতে হবে প্রেমিকাকে, যিনি অপহৃত শিশুটির ফুপু। তবে সে আশা পূরণ হয়নি তাঁর; বরং যেতে হয়েছে কয়েদখানায়।

ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের ওয়ানাপার্থি জেলার কোথাকোটা শহরে। প্রেমিকাকে পেতে তাঁর ভাতিজাকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে ওই যুবকের বিরুদ্ধে। যুবকের দাবি, প্রেমিকাকে তাঁর হাতে তুলে দিলে শিশুটিকে ফিরিয়ে দেবেন।

প্রেমিকাকে পাওয়ার জন্য শিশু অপহরণের ঘটনা জানার পর তৎপর হয় পুলিশ। গতকাল সোমবার সকালে পুনে রেলস্টেশন থেকে আট বছর বয়সী শিশু রাতলাভাথ চন্দ্রু নায়েককে উদ্ধার করে পুলিশ। অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনের খবরে এ তথ্য জানানো হয়।

Loading...

পুলিশ জানায়, ভামসি কৃষ্ণ নামের ২৩ বছর বয়সী ওই অপহরণকারী তেলেঙ্গানার মাহবুবনগর জেলার একজন অটোরিকশাচালক। শিশুটির ফুপুর সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। প্রেমিকার বাড়ি হায়দরাবাদের শহরতলি শিবরামপল্লিতে। সম্প্রতি তাঁদের দুজনের প্রেমের সম্পর্ক মেয়েটির পরিবার জেনে যায়। তাঁরা শিবরামপল্লিতে ভামসিকে মারধর করে এবং হুমকি দেয় যেন তিনি মেয়েটির আশপাশেও আর না আসেন। ক্ষুব্ধ ভামসি তখন মেয়েটির শিশু ভাতিজাকে অপহরণের পরিকল্পনা করেন।

শিশু চন্দ্রু তেলেঙ্গানার কোথাকোটায় ভারতীয় বিদ্যামন্দির নামের এক স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। স্কুলটি আবাসিক। সেখানে চন্দ্রুর বড় দুই ভাইও পড়ে। গত শনিবার ভামসি ওই স্কুলে গিয়ে জানান, চন্দ্রুর মা হায়দরাবাদে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। তিনি ওই পরিবারের পক্ষ থেকে ছেলে তিনজনকে নিয়ে যেতে এসেছেন। ওই ছেলেরা ভামসিকে তাদের প্রতিবেশী বলে জানালে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাঁর সঙ্গে তাদের যেতে অনুমতি দেয়। কোথাকোটা বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছানোর পর ভামসি চন্দ্রুর বড় দুই ভাইকে সেখানে অপেক্ষা করতে বলেন এবং চন্দ্রুকে একা নিয়ে সরে যান। দুই ভাই সেখানে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করে স্কুলে ফিরে আসে। এর কিছু পরই চন্দ্রুর বাবা-মা স্কুলে ফোন দিয়ে জানতে চান, চন্দ্রু কোথায়? পরে জানা যায়, ভামসি তাকে অপহরণ করেছেন।

পরিবারটি জানায়, ভামসি তাদের বারবার ফোন করে জানান, প্রেমিকাকে তাঁর কাছে হস্তান্তর করলে তিনি শিশুটিকে ফেরত দেবেন। পরে ৮ এপ্রিল শিশুটির দাদি রাতলাভাথ জুলি কোথাকোটা পুলিশের কাছে অপহরণের লিখিত অভিযোগ করেন।

ওয়ানাপার্থি জেলার পুলিশ সুপার রেমা রাজেশ্বরী তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটিকে উদ্ধারে একটি বিশেষ টিম গঠন করেন। পুলিশ অপহরণকারীর গতিবিধি শনাক্ত করে জানতে পারে, তিনি মহারাষ্ট্রে ট্রেনে ভ্রমণ করছেন। পরে গতকাল সকালে পুনে রেলস্টেশন থেকে শিশুটিসহ তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Loading...